বাংলার প্রতিচ্ছবি: রাত পেরিয়ে ঘরে ফেরার তাড়া ছিল ১৫ বছর বয়সী মেয়েটির। গণপরিবহন বাসে নেমে চেনা পথ ধরে বাড়ি ফেরার জন্য নির্ভর করে উঠেছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। কিন্তু সেই বিশ্বাস আর বাড়ি পৌঁছাতে দেয়নি তাকে। লালমাইয়ের নির্জন ধানখেতে অন্ধকার রাতের সুযোগ নিয়ে তাকে কেড়ে নেওয়া হলো সম্ভ্রম ও প্রাণ। যে মোবাইলটি সঙ্গে ছিল, সেটি লুকিয়ে রেখেই চট্টগ্রাম পালিয়েছিল ঘাতক চালক। পুলিশের ঝটিকা অভিযানে ধরা পড়া সেই চালকের জবানবন্দিতে এবার বের হয়ে এলো এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের আদ্যোপান্ত।
কুমিল্লায় ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী হত্যার নির্মম ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন একাই তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। সুমন নিজেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
পুলিশের দেওয়া তথ্য মতে, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সুমনের অটোরিকশাটি ৩০০ টাকায় ভাড়া করে ওই ছাত্রী। তবে তাকে গন্তব্যে না নিয়ে চালক সুমন অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে লালমাই এলাকার একটি নির্জন ধানখেতে নিয়ে যায়। সেখানে ছাত্রীটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সে।
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর সুমন ওই ছাত্রীর হাতব্যাগ থেকে তার আইফোনটি নিজের হেফাজতে নেয়। ব্যাগটি ঘটনাস্থলের ধানখেতেই ফেলে রেখে সুযোগ বুঝে গা ঢাকা দেয় সে। পালিয়ে যাওয়ার পথে কাচিকাটা মসজিদের সামনের একটি পুকুরে গোসল সেরে নিজেকে পরিষ্কার করে সুমন। এরপর অন্য আরেকটি অটোরিকশায় চেপে সে বাখরাবাদ এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে একটি পুকুরপাড়ের ঝোপঝাড়ের মধ্যে চুরি করা আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে পালিয়ে যায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশের কয়েকটি দল তদন্তে নামে। তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় ৯ অক্টোবর চট্টগ্রামের একটি স্থান থেকে ঘাতক সিএনজিচালক সুমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে সুমনের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার ঝোপঝাড় থেকে নিহত ছাত্রীর লুকিয়ে রাখা আইফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ।