ঢাকা | ২০ অক্টোবর ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার কাজ অব্যাহত রয়েছে: তারেক রহমান

প্রকাশের তারিখ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: সবুজ শ্যামল সাভার সেনানিবাসের প্যারেড গ্রাউন্ডে সুশৃঙ্খল সেনাসদস্যদের কুচকাওয়াজ, আকাশে উড্ডীয়মান লাল-সবুজের প্রদীপ্ত পতাকা আর বিগলের সুর—সব মিলিয়ে এক গর্বিত পরিবেশ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐতিহ্য ও গৌরবের স্মৃতি স্মরণ করে সাভারের প্যারেড গ্রাউন্ডে সেনাসদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হলো ‘জাতীয় পতাকা’। সেনাসদস্যদের কল্যাণ, বেতন বৃদ্ধি ও 'ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন' বাস্তবায়নসহ সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার নতুন এক অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হলো আগামী বাংলাদেশের প্রতিরক্ষার রূপরেখা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার এবং সর্বাধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সরকার। সেনাসদস্যদের জীবনযাপনের মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাভার ক্যান্টনমেন্টে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন এবং রেজিমেন্টকে 'জাতীয় পতাকা' (ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড) প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার এবং বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক কোরের প্রতিনিধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আবাসন, বেতন বৃদ্ধি ও ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেনাসদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ পার্সেন্ট থেকে ১৩৮ পার্সেন্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সেনাসদস্যদের জীবনযাপনের মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

পেশাগত সাফল্যের জন্য ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ব্যাটালিয়নগুলোকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়; এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। পতাকার মান রক্ষা করা সব সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব।’

‘সেনাবাহিনীর জন্ম ইতিহাসের সঙ্গে স্বাধীনতার ইতিহাস অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত’

বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপঅধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান “উই রিভোল্ট” উচ্চারণ করেছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে তিনি সেনাবাহিনী ও বাংলাভাষী মানুষকে সংগঠিত করে ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিজস্ব নিবন্ধের উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যার বিরুদ্ধে বাংলাভাষী সেনাসদস্যরা পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সেনাকর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ও বীরোচিত ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য বলে মনে করে।’

সাইবার স্পেস, ড্রোন ও দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে জোর

বদলে যাওয়া বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বাস্তবতায় আমাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান।’

তিনি আরও বলেন, সরকার সর্বক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী দেশেই উৎপাদনের জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। তবে প্রযুক্তি কখনোই মানুষের বিকল্প নয় উল্লেখ করে তিনি তিন বাহিনীর সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে নির্দেশ দেন। এছাড়া জাতীয় দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাসদস্যদের অবদানকেও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

কমেন্ট বক্স