বাংলার প্রতিচ্ছবি: উত্তরবঙ্গের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও জাতীয় গ্রিডে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যে লালমনিরহাটে ১০০ মেগাওয়াট এগ্রোভোল্টাইক সোলার পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভোটমারী ইউনিয়নের চেয়্যারম্যান মো: ফরহাদ হোসেন। 'রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড' (RSPPL)-এর উদ্যোগে গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলাতে এই মতবিনিময় সভাটি আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রজেক্ট এলাকার জমির মালিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সুধীজন উপস্থিত থেকে প্রস্তাবিত সোলার পাওয়ার প্লান্টের অগ্রগতি, জমির বহুমুখী ব্যবহার এবং স্থানীয়দের কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। ইতিমধ্যে কালীগঞ্জের ভোটমারী ইউনিয়নে ৩৫০ একর জমি প্রজেক্টের জন্য নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে চুক্তি সম্পাদনসহ আনুষ্ঠানিকভাবে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।
'এগ্রোভোল্টাইক' প্রযুক্তি ও জমিদাতাদের সুবিধা: মতবিনিময় সভায় রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রজেক্টটিতে আধুনিক 'এগ্রোভোল্টাইক' (Agrivoltaic) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে সোলার প্যানেলের নিচে জমির স্বাভাবিক ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।
- কৃষিকাজে পূর্ণ সুযোগ: জমির মালিকরা সোলার প্যানেলের নিচের অংশে পূর্বের ন্যায় স্বাধীনভাবে চাষাবাদ ও ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।
- কোম্পানির সার্বিক সহায়তা: প্যানেলের নিচে শস্য উৎপাদনে কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সাহায্য-সহযোগিতা দেবে রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড।
- অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি: বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে কর্মকর্তা ও কর্মচারী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে জমিদাতা পরিবারের যোগ্য ও শিক্ষিত প্রার্থীদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।
কুড়িগ্রাম ও রংপুরে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ:
লালমনিরহাটের এই মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেড তাদের কার্যক্রম রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলায় বিস্তৃত করছে।
- রংপুর : গঙ্গাচড়ায় উপযুক্ত জমি পরিদর্শন শেষ হয়েছে এবং জায়গা চূড়ান্তকরণের বিষয়টি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
- কুড়িগ্রাম : চিলমারী, উলিপুর ও কুড়িগ্রাম সদরের আশপাশে একাধিক জমি পরিদর্শন করে প্লান্ট তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।
মতবিনিময় সভায় অনলাইনে যুক্ত থেকে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: ইমরান আলী বলেন: "উত্তরবঙ্গের অবহেলিত অঞ্চলে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ৪ অক্টোবরের মতবিনিময় সভায় জমিদাতাদের অভূতপূর্ব সাড়া আমাদের উৎসাহিত করেছে। আমাদের নীতি অত্যন্ত পরিষ্কার—জমির মালিকরা প্যানেলের নিচে তাদের চাষাবাদ চালিয়ে যাবেন, যাতে তাদের কৃষি আয় ব্যাহত না হয়। পাশাপাশি জমিদাতা পরিবারের যোগ্য সদস্যদের আমাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। লালমনিরহাটের মডেল অনুসরণ করে রংপুর ও কুড়িগ্রামেও আমরা দ্রুত প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু করব।"
একই ভাবে মতবিনিময় সভায় অনলাইনে যুক্ত থেকে কোম্পানীর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার হিল্লোল বাউলিয়া বলেন: "কালীগঞ্জের ভোটমারীতে ৩৫০ একর জমির চুক্তি এবং স্থানীয়দের সাথে একাধিক আলোচনা আমাদের প্রকল্পকে আরও বেগবান করেছে। আমরা জমিদাতাদের সার্বিক স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শস্য উৎপাদনে চাষীদের সর্বাত্মক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়া হবে। একাধিকবার সরজমিনে পরিদর্শন ও সাইনবোর্ড স্থাপনের পর এখন আমরা মূল অবকাঠামোগত কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।"
সভায় উপস্থিত থেকে ভোটমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: ফরহাদ হোসেন বলেন, "রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেডের এই উদ্যোগ আমাদের ভোটমারী তথা পুরো কালীগঞ্জের জন্য এক নতুন দিগন্ত। মতবিনিময় সভায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জমির মালিকদের চাষাবাদের অধিকার রক্ষা এবং স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের চাকরির যে নিশ্চয়তা দিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই প্রজেক্ট আমাদের এলাকার আর্থিক চিত্র পুরোপুরি বদলে দেবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।"
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থেকে রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেডের প্রতিনিধি মশিউর রহমান বলেন, আজকের এই মতবনিমিয় সভা অত্যন্ত সৌহাদ্যপূর্ন পরিবেশে সফল ভাবে শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের মাঝে এই প্রজেক্ট নিয়ে অনেক আশা-আকাঙ্খা তৈরি হয়েছে বিশেষ করে স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে। আমরা আমাদের কথা রাখব এবং খুব দ্রুত আমাদের কাজ শুরু করব।
৪ অক্টোবরের মতবিনিময় সভার পর স্থানীয় জমিদাতা ও বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, রংপুর সোলার পাওয়ার প্লান্ট লিমিটেডের এই মানবিক ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা উত্তরবঙ্গের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের পাশাপাশি অঞ্চলের বেকারত্ব দূরীকরণে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।