ঢাকা | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

সেবির আইনি প্রক্রিয়া থেকে দায়মুক্তি পেলেন গৌতম আদানি ও গ্রুপের ৪ প্রতিষ্ঠান

অবশেষে ১ কোটি ৪৮ লাখ রুপি পরিশোধের মাধ্যমে নিষ্কৃতি পেলেন আদানি গ্রুপ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো

প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: শেয়ারবাজারের কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নূন্যতম কত শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে—সেই নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। চার বছর ধরে চলা তদন্ত, কারণ দর্শানোর নোটিশ আর দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ১ কোটি ৪৮ লাখ রুপি পরিশোধের মাধ্যমে সেই আইনি প্রক্রিয়া থেকে নিষ্কৃতি পেলেন ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের কর্ণধার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তে বড় ধরনের স্বস্তি পেল গোষ্ঠীটি।

ন্যূনতম পাবলিক শেয়ারহোল্ডিং (এমপিএস) বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়ার (সেবি) শুরু করা আইনি প্রক্রিয়া থেকে দায়মুক্তি পেয়েছেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। তাঁর সঙ্গে গ্রুপের চারটি কোম্পানি এবং আরও ১৩ জন পরিচালক এই দায়মুক্তি পেয়েছেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং আইনি প্রক্রিয়া সমাপ্তির জন্য আবেদনকারীরা মোট ১ কোটি ৪৮ লাখ রুপি সমঝোতা ফি (Settlement Fee) পরিশোধ করেছেন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পাস হওয়া এক আদেশের মাধ্যমে সেবি এ নির্দেশ জারি করে।

দায়মুক্তি পাওয়া প্রতিষ্ঠান ও আদেশের বিস্তারিত

সোমবার পাস হওয়া এই আদেশের আওতায় দায়মুক্তি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড

  • আদানি পাওয়ার লিমিটেড

  • আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড

  • আদানি ট্রান্সমিশন লিমিটেড (যা বর্তমানে আদানি এনার্জি সলিউশনস লিমিটেড নামে পরিচিত)

  • সংশ্লিষ্ট ৪টি কোম্পানির পরিচালকবৃন্দ।

মামলার প্রেক্ষাপট ও তদন্ত প্রক্রিয়া

২০২০ সালের জুন ও জুলাই মাসে নির্দিষ্ট কিছু তালিকাভুক্ত আদানি গ্রুপ কোম্পানির বিরুদ্ধে এমপিএস বিধি ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়ার পর সেবি প্রাথমিক পরীক্ষা চালায়। এরপর একই বছরের ২৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর সেবির পক্ষ থেকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৩ মার্চ একটি পরিপূরক নোটিশও দেওয়া হয়।

নোটিশগুলোতে সিকিউরিটিজ কন্ট্রাক্টস (রেগুলেশন) রুলস, তৎকালীন লিস্টিং এগ্রিমেন্ট এবং সেবির লিস্টিং অব্লিগেশনস অ্যান্ড ডিসক্লোজার রুটিন রেগুলেশনসের অধীনে ন্যূনতম পাবলিক শেয়ারহোল্ডিংসংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

সমঝোতা ফি দিয়ে নিষ্পত্তি

আইনি ঝামেলার দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে আবেদনকারীরা কোনো অপরাধ স্বীকার বা অস্বীকার না করেই আইনি প্রক্রিয়াটি সমঝোতার মাধ্যমে সমাপ্ত করার প্রস্তাব দেন। সেবি প্রস্তাব মেনে নিয়ে মোট ১ কোটি ৪৮ লাখ রুপি ফি ধার্য করে। এই অর্থ পরিশোধ করার পর সংস্থাটি আদানি গ্রুপ ও গৌতম আদানির বিরুদ্ধে জারি করা কারণ দর্শানোর নোটিশ ও পরিপূরক নোটিশের সমস্ত আইনি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়।

কমেন্ট বক্স