বাংলার প্রতিচ্ছবি: ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে বিশাল অংকের আর্থিক লেনদেন ও কোটি কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করে বিদেশে পাড়ি জমানোর অভিযোগে আলোচিত ট্রাভেল এজেন্সি 'ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনাল'-এর মালিকপক্ষ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ আরও কঠোর হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকার বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-১৭ এ দায়েরকৃত সিআর মামলা নং-৪৬৬/২৬ (ভাটারা আমলী আদালত)-এর শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিদেশ গমনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ফ্লাই ফার ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রধানত দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান প্রতিষ্ঠানের সিও ও ১ নম্বর আসামি নুসরাত জাহান এবং ২ নম্বর আসামি মেহেদী হাসান। বর্তমানে তারা দুজনেই বিদেশে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের অবর্তমানে দেশে থাকা সহযোগী ও স্বজনদের মাধ্যমে কোম্পানির বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি ও অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।

এদিকে, মামলার বাদীর পক্ষ থেকে দেশে অবস্থানরত অন্যান্য সহযোগী—৩ নম্বর আসামি কো-ফাউন্ডার যোহরা খানম লাভলী, ৪ নম্বর আসামি আনোয়ার হোসেন এবং ৫ নম্বর আসামি খোকন চন্দ্র রায়-এর জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারের জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে। নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড, সম্পদ হস্তান্তর এবং বাদীর গাড়ি আত্মসাৎসহ নানা অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত এই ট্রাভেল এজেন্সির নামে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন থানায় ইতোমধ্যে একাধিক ফৌজদারি মামলা ও সিআর মোকদ্দমা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
পল্টন থানার এফআইআর নং-১২ (তারিখ: ০৪/০৯/২০২৫)
পল্টন থানার এফআইআর নং-৩৫ (তারিখ: ২২/১০/২০২৫)
ভাটারা থানার সিআর মামলা নং-২০৮/২৩ ও ৮৯৫/২৫
তদন্তে জানা গেছে, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর আসামিদের পাসপোর্টে বিভিন্ন দেশের ভিসা যুক্ত থাকায় তাদের যেকোনো সময় দেশত্যাগ করার এবং মামলার প্রমাণ নষ্ট করার আশঙ্কা রয়েছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এবং বাদীপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত আসামিদের বিদেশ গমনে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন।
আইনজীবীদের মতে, ভাটারা আমলী ১৭ নং আদালতের এই নির্দেশনার ফলে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার এবং ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ আরও সুগম হবে।