ঢাকা | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিএনপি ও সরকারের বিরুদ্ধে ট্যাগের চেষ্টা করা হচ্ছে: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশের তারিখ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: ফেসবুক কিংবা টিকটকের নিউজফিডে মুহূর্তেই ঘুরে বেড়াচ্ছে কোনো এক অপ্রীতিকর ঘটনার ভিডিও। ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হওয়ার আগেই লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের বন্যায় ছড়াতে থাকে রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ি ও মনগড়া অভিযোগ। আর এই প্রক্রিয়ায় ছড়ানো অপতথ্য বা ‘ডিসইনফরমেশন’-এর শিকার হয়ে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে জনমত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত এই ভার্চ্যুয়াল ঝড়ের মুখে দায়িত্বশীল ভূমিকা ও তথ্য যাচাইয়ের কঠোর বার্তা দিল তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপতথ্য ছড়িয়ে বিএনপি ও সরকারের সঙ্গে ‘চাঁদাবাজি’র একটি ধারণা জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সামনে আসার আগেই রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে দায়ী করে প্রচার চালানো হলে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময়ে তথ্যের পরিবর্তন হলেও আগের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থেকে যাওয়ায় সেই বিভ্রান্তি আরও বাড়ে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ‘চাঁদাবাজি’ বিতর্ক

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘হামলার শিকার হওয়ায় সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সরকারের সহানুভূতি রয়েছে।’ তবে ঘটনার পরপরই চাঁদাবাজি এবং বিএনপির সংশ্লিষ্টতার যে অভিযোগ সামনে এসেছিল, পরবর্তী সময়ে সেই বক্তব্যের কিছু অংশের পরিবর্তন এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সালমান মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু জনপ্রিয় ও ব্যাপক অনুসারী থাকা কোনো ব্যক্তি যখন একটি অভিযোগ করেন, সেই বক্তব্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব অনেক বেশি হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে সালমান নিজেই তাঁর কাছে সরাসরি চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি সংশোধন করেছেন। ফলে প্রথম বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে যেসব রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রচার হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।’

বিরোধী নেতাদের প্রতিক্রিয়া ও অপতথ্য প্রতিরোধ

ব্রিফিংয়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়ার কথা তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সালমান মুক্তাদিরের প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে জামায়াতের আমির সরকার ও সরকারি দলকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।’ কিন্তু পরে নতুন তথ্য সামনে আসার পরও সেই পোস্ট প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে তিনি জানান।

উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি সরকার ক্ষমতায় থাকলে তার কর্মকাণ্ড নিয়ে যৌক্তিক সমালোচনার অনেক ক্ষেত্র থাকবে। সে জন্য অপতথ্যের প্রয়োজন নেই।’ একই সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপি (NCP) নেতাদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে কেউ প্রতিক্রিয়া জানাতেই পারেন। কিন্তু পরে তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ বলে প্রতীয়মান হলে সেই অবস্থানও সংশোধন করা দায়িত্বশীল আচরণের অংশ।’

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলাসহ রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করেন, ‘তদন্তে যদি ক্ষমতাসীন দলের কোনো ব্যক্তি, পুলিশ সদস্য কিংবা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘কারো প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হলে বা তিনি হামলার শিকার হলে তা ঠেকানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এমন ঘটনা ঘটলে সরকার অবশ্যই বিব্রত ও দুঃখিত হয়। যারা সরাসরি ভাঙচুর করেছেন তাঁদের গ্রেফতার করাই তদন্তের শেষ নয়, নির্দেশদাতা বা ইন্ধনদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’

‘অপতথ্য এখন বৈশ্বিক সংকট’

তথ্য উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, অপতথ্য বা ডিসইনফরমেশন এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বব্যাপী এক বড় সংকট। অসম্পূর্ণ তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মূল ক্ষতিটা করে ফেলে। সাইবার সুরক্ষাসংক্রান্ত আইনি কাঠামো নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ সরকার ছোট করে দেখছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধের ধরনভেদে কোথাও বেড়েছে, কোথাও কমেছে। পরিস্থিতিকে পুরোপুরি ‘নৈরাজ্য’ বলতে দ্বিমত পোষণ করলেও দায়িত্বে কোনো গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

কমেন্ট বক্স