ঢাকা | ১৪ Jul ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

পানি কমলেও কাঁদছে মানুষ, ভেসে উঠছে ধ্বংসস্তূপ

চট্টগ্রামে বন্যায় ৪ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, মৃত বেড়ে ১৩

প্রকাশের তারিখ: Jul ১৪, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: টানা অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানি চট্টগ্রাম জেলা থেকে ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে রেখে যাওয়া ভয়াবহ ক্ষতচিহ্ন। বানের তোড়ে তছনছ হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছের ঘের এবং ধ্বংস হয়েছে অসংখ্য খামার। চারদিকে এখন কেবল বিপর্যস্ত জনপদের করুণ ছবি। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ধস ও বন্যায় এ পর্যন্ত জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১২ জন।

উপজেলাগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি:

  • সাতকানিয়া: সোমবার থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করায় সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের ১ হাজার ৫০০ জনের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। তবে ঘরে ফিরেও স্বস্তি নেই; অধিকাংশ ঘরজুড়ে জমে আছে কাদা ও ময়লা-আবর্জনা। সাতকানিয়া ইউএনও খন্দকার মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের ৮৫ শতাংশ এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু মাটির ঘর ধসে পড়েছে, যেগুলোর তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

  • বাঁশখালী: বাঁশখালীতে এখনো প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এই উপজেলায় ৪ হাজারের বেশি মাটির ও কাঁচা ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে পুরোপুরি ধসে গেছে, যেগুলো নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। ছনুয়া ও গণ্ডামারার দুর্গত বাসিন্দারা তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন। দিনে এনে দিনে খাওয়া কর্মহীন মানুষের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক।

সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রম: চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৬টি উপজেলার (মীরসরাই, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, সন্দ্বীপ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী) মোট ১২২টি ইউনিয়ন দুর্যোগের কবলে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁশখালী ও সাতকানিয়া। বর্তমানে ৪১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৮২১ জন মানুষ অবস্থান করছেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সোমবার পর্যন্ত বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ৬৮৪ টন চাল এবং নগদ ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গম এলাকাগুলোতে সরকারি ত্রাণ সহায়তা এখনো অপ্রতুল। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সব এলাকা থেকে পানি পুরোপুরি নেমে যাবে এবং তখন ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে।

কমেন্ট বক্স