ঢাকা | ১৪ Jul ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

মানিলন্ডারিং মামলায় সিআইডির জালে হরিদাস, গাইবান্ধা থেকে গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ: Jul ১৩, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানিলন্ডারিং (অর্থ পাচার) মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান। তিনি জানান, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিআইডির একটি বিশেষ দল পলাশবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই অভিযানে স্থানীয় থানা পুলিশও সহযোগিতা করেছে।

প্রতারণা ও আগের গ্রেপ্তারের ইতিহাস: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, হরিদাস দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় পরিচয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করে আসছিলেন। এর আগে ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে র‍্যাব-৩ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের ভুয়া প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে বদলি-বাণিজ্য, টেন্ডারে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

পরিচয় ও পটভূমি: তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, হরিদাস মূলত বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলী বাজার এলাকার শ্রী গোপীনাথের ছেলে। অল্প বয়সে ভারতে গিয়ে পড়াশোনা ও ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে রাজধানীর উত্তরায় এসি মেকানিক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ধর্ম পরিবর্তন করে ‘তাওহীদ ইসলাম’ নাম গ্রহণ করেন এবং সুমি ইসলাম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন বলেও তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

রামমূর্তি বিতর্ক ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন: সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিশাল আকৃতির রামমূর্তি ও মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলার সনাতন ধর্মীয় নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিলেন—একসময়ের অসচ্ছল এই এসি মেকানিক কীভাবে অল্প সময়ে শতকোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করলেন, তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সর্বশেষ মানিলন্ডারিং মামলায় সিআইডির এই গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিপুল সম্পদের রহস্য ও অর্থের আসল উৎস উন্মোচন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কমেন্ট বক্স