বাংলার প্রতিচ্ছবি: দুই নারীর সম্পর্ক মানেই প্রতিযোগিতা, হিংসা কিংবা রেষারেষি—এমন প্রচলিত সামাজিক ধারণাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান ও ভারতের গুণী অভিনেত্রী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁদের মতে, স্বামীর প্রাক্তন ও বর্তমান স্ত্রী মানেই একে অপরের শত্রু—এই ধারণা বাস্তবের চেয়ে সমাজের তৈরি করা একটি নেতিবাচক মানসিকতা মাত্র। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’-কে ঘিরে এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই দুই তারকা। ছবিতে একজন একই পুরুষের প্রাক্তন ও অন্যজন বর্তমান স্ত্রী হলেও তাঁদের সম্পর্ককে প্রচলিত দ্বন্দ্বের বাইরে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সমাজ যেভাবে ভাবতে শেখায়: জয়া আহসান বলেন, “শত্রুতার মনোভাব আসবেই বা কেন! এমন তো আসলে হয় না। সমাজ এভাবে আমাদের ভাবতে শেখায়।” তাঁর মতে, একই ছবিতে একাধিক নারী চরিত্র থাকলেই তাঁদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে—এই ধারণাও এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। বর্তমান সময়ে সিনেমা নারী বা পুরুষকেন্দ্রিক নয়, বরং পুরোপুরি চরিত্রকেন্দ্রিক। তাই সহশিল্পীদের সঙ্গে একটি সুস্থ ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশেই কাজ করা সম্ভব।
চরিত্রের খাতিরে নিজেকে তুলে ধরা: সহকর্মী চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ও একই সুরে কথা বলেন। তাঁর ভাষায়, ছবির চরিত্রের প্রয়োজনে একজন অভিনেত্রীকে সুন্দর বা আকর্ষণীয় দেখানো হলে সেটিকে ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি রসিকতা করে বলেন, “জয়াকে সুন্দরী লাগছে বলে যদি আমি কাঁদতে বসি, তা হলে তো ছবিটাই দাঁড়াবে না। অভিনেতাকে চরিত্রের প্রয়োজনেই নিজেকে তুলে ধরতে হয়।”
ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা: দুই অভিনেত্রীর পরিচয় ও বন্ধুত্বের শুরু পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বিসর্জন’ ছবির শুটিংয়ের সময়। জয়া জানান, সেই ছবি থেকেই চূর্ণীর কাছ থেকে তিনি দারুণ আন্তরিকতা ও সহযোগিতা পেয়ে আসছেন। এমনকি তাঁর চরিত্রের পোশাক, সাজসজ্জা ও লুক নির্ধারণেও চূর্ণী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। চূর্ণীও জানান, একটি চরিত্রকে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় সহশিল্পীর প্রতি এক ধরনের ভালোবাসা তৈরি হয়। সেই কারণেই জয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো প্রতিযোগিতার ছিল না, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্নেহের।
উল্লেখ্য, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ও অভিনীত ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ ছবিটি গত ১০ জুলাই মুক্তি পেয়েছে। ২০২৩ সালের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘অর্ধাঙ্গিনী’-র ধারাবাহিকতায় নির্মিত এই ছবিতে জয়া আহসান ও চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অন্যতম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন কৌশিক সেন।