ঢাকা | ০৯ Jul ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

বান্দরবানের লামা ও চকরিয়ায় পাহাড় ধসে শিশুসহ ৭ জনের মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ: Jul ৯, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: টানা ভারি বর্ষণের জেরে বান্দরবানের লামা এবং কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোরের মধ্যে এই লাগোয়া দুই উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

লামায় দুই পরিবারের পাঁচজন নিহত: বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মিশনপাড়ায় দুটি পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। লামা থানার ওসি কায়ছার হামিদ জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটে রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে, যেখানে মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যান জুয়েল (২৮) ও তাঁর স্ত্রী কুলসুমা বেগম (২২)। এরপর ভোর ৪টার দিকে দ্বিতীয় পাহাড় ধসের ঘটনায় অন্য একটি ঘরের একই পরিবারের তিনজন নিহত হন। তাঁরা হলেন ইউনুস (২৮), তাঁর স্ত্রী রানু বেগম (২২) এবং তাঁদের চার বছর বয়সি সন্তান সোলায়মান।

ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন জানান, দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম হওয়ায় লামা থেকে ফায়ার সার্ভিস না এনে পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়ার চুনতি থেকে ফায়ার সার্ভিস এনে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, এর আগে ২০০৯ ও ২০১৬ সালে লামায় ভয়াবহ পাহাড় ধস হলেও মিশনপাড়া এলাকায় এমন ঘটনা এবারই প্রথম। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলায় ওই এলাকার মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছেন। এছাড়া বুধবার রাত থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় এবং টেলিটক নেটওয়ার্ক বিকল হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ ও যোগাযোগে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।

চকরিয়ায় দুই শিশুর প্রাণহানি: এদিকে লামা উপজেলার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের চকরিয়াতেও পাহাড় ধসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চকরিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানিয়েছেন, উপজেলার বড়ইতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মছনিয়া কাটা এলাকায় পাহাড় ধসে এই দুই শিশু মাটির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারায়। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা উপদ্রুত এলাকাগুলো থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

কমেন্ট বক্স