ঢাকা | ০৯ Jul ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

৪৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ আপিল বিভাগের

প্রকাশের তারিখ: Jul ৯, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ২০২৩ সালে কোটার ভিত্তিতে পরীক্ষা নেওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদের ৪৬ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল মেধার ভিত্তিতে পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোটা পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা ১৫১ জন রিট পিটিশনারকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সহকারী শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।

মামলার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত: আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছিল। সেই সময় বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি অনুযায়ী প্রায় ৮৪ শতাংশ কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তবে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগের ঐতিহাসিক রায়কে ভিত্তি করে এই কোটা পদ্ধতিকে চ্যালেঞ্জ জানান ১৫১ জন চাকরিপ্রার্থী। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ ওই কোটাভিত্তিক নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে এই ১৫১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। সরকার পক্ষ এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল।

আপিল বিভাগের চূড়ান্ত তিন নির্দেশনা: আজ চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তিনটি সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আপিলটি নিষ্পত্তি করেছেন: ১. রিটকারীদের নিয়োগ: মামলা পরিচালনাকারী ১৫১ জন রিট পিটিশনারকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২. ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন: পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৬ হাজার ১৯৯ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল সুপ্রিম কোর্টের কোটা বাতিল সংক্রান্ত আগের রায়ের (সিপি নাম্বার ২৫১৬ অব ২০২৪) আলোকে মেধার ভিত্তিতে পুনরায় প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩. চলমান নিয়োগের সুরক্ষা: মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এরই মধ্যে কোটা পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়া ৬ হাজার ৫৩১ জন শিক্ষকের চাকরি ন্যায়বিচারের স্বার্থে বহাল রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের বিতর্কিত কোটা পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে বাতিল হলো এবং সুপ্রিম কোর্টের পূর্বঘোষিত মেধাভিত্তিক নিয়োগের নীতিটি পুনরায় বলবৎ করা হলো। এর ফলে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চিত অধিকার ফিরে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কমেন্ট বক্স