বাংলার প্রতিচ্ছবি: রাজধানী থেকে শুরু করে তৃণমূল—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেলেই চাউর হয়ে যায় ‘যৌথ অভিযান’-এর গুঞ্জন। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিরাপত্তায় বাহিনীগুলোর এই মুখোমুখি অবস্থান কি বিশেষ কোনো অভিযানের অংশ, নাকি নিয়মিত কার্যক্রম? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমনে ওঠা এমন নানা প্রশ্নের জট ছুটিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। জানালেন, দেশে পৃথকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো ‘যৌথ অভিযান’-এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; বরং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে বাহিনীগুলোর এমন সমন্বিত উদ্যোগ নিয়মিত প্রক্রিয়ারই অংশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদক নিরসনে এসব কার্যক্রম সবসময়ই চলছে। আগামী দিনেও তা আরও জোরদার করা হবে।’
তেজগাঁওয়ে ১১ বিঘায় আনসারের নতুন সদর দপ্তর
দীর্ঘদিনের আবাসন ও অবকাঠামোগত সংকটে থাকা আনসার ও ভিডিপির জন্য আধুনিক সুবিধার নতুন সদর দপ্তর গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে তেজগাঁওয়ে ৩.৪২৮ একর (প্রায় ১১ বিঘা) জমিতে নির্মিত হতে যাচ্ছে এই বহুতল কমপ্লেক্স।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে খিলগাঁওয়ের অপ্রশস্ত জায়গা থেকে সদর দপ্তরের কার্যক্রম চালাতে গিয়ে স্থানসংকুলান ও যাতায়াতের নানা সীমাবদ্ধতা পোহাতে হতো। নতুন অবকাঠামো তৈরি হলে এই সংকট কাটবে। আনসারকে দেশের সর্ববৃহৎ বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার, ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার এবং ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত ভিডিপি সদস্য রয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বরত সদস্যদের সুবিধার্থে আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরেও অতিরিক্ত ব্যারাক তৈরি করা হচ্ছে।
অপরাধে জড়ানো বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রশ্নে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেই শেষ করা হচ্ছে না। প্রমাণ মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা (ক্রিমিনাল অফেন্স) দায়ের করা হচ্ছে।’
আসন্ন বিজয় উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী আশ্বাস দেন, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস; এই মাসে কোনো অপশক্তিকে দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
ট্রাফিকে যুক্ত হচ্ছে এআই
রাজধানীর চিরচেনা যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এছাড়া যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসনে পুরো রাস্তা একসাথে না কেটে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।