ঢাকা | ১১ Jul ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

৪৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ঘাস

সমালোচিত মাঠ থেকেই আয় কোটি ডলার

প্রকাশের তারিখ: Jul ১১, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের মাঠের এক টুকরো ঘাস স্মারক হিসেবে সংগ্রহ করার সুযোগ করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগামী ১৯ জুলাই যে নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্ব সেরার চূড়ান্ত লড়াই অনুষ্ঠিত হবে, সেই মাঠের ছোট ছোট টুকরো ঘাস অনলাইনে বিক্রি শুরু করেছে সংস্থাটি। ক্রেতারা এই ঐতিহাসিক স্মারক হাতে পাবেন ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর, যা কেবল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ঠিকানায় পাঠানো যাবে।

স্মারকের বিবরণ ও দামের ভিন্নতা: ফিফার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ঘাসগুলোকে সতেজ ও সুরক্ষিত রাখতে বিশেষ রেজিনের (একধরনের আঠা) স্বচ্ছ অ্যাক্রিলিক আবরণে আটকে দেওয়া হয়েছে। এই আবরণের ওপর খোদাই করা থাকবে ২০২৬ বিশ্বকাপের লোগো, ভেন্যুর নাম, তারিখ এবং ফাইনাল ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল। সাথে থাকবে একটি ইউএসবি ড্রাইভ, যাতে থাকবে ঘাসটির আসল হওয়ার প্রমাণপত্র বা ‘অথেন্টিসিটি ফিল্ম’। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কিপ স্টাব’ এই স্মারকগুলো তৈরি করছে। ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ঘাসের টুকরোগুলো মোট চারটি ভিন্ন সংস্করণে বিক্রি হচ্ছে:

  • সাধারণ সংস্করণ: দাম ৪৫০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি টাকায় ৫৫ হাজার টাকার বেশি)।

  • অন্যান্য সংস্করণ: ৯০০ ও ১২০০ মার্কিন ডলার। এই প্রথম তিনটি সংস্করণে ঘাসের আকার হবে ২.৫ ইঞ্চি বাই ২.৫ ইঞ্চি বাই ২.৫ ইঞ্চি।

  • হিরো এডিশন: দাম ৩০০০ মার্কিন ডলার। এতে মিলবে ৩ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চির এক টুকরো ঘাস। সাথে থাকবে সোনা দিয়ে খোদাই করা একটি ধাতব টিকিট, ফাইনাল ম্যাচের বলের মিনি রেপ্লিকা এবং ক্রিস্টাল কাটের কাচ দিয়ে তৈরি একটি বিশ্বকাপ ট্রফি।

প্রতিটি সংস্করণের জন্য মাত্র ২০২৬টি করে টুকরো বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সব কটি স্মারক বিক্রি হলে এ থেকে ফিফার আয় হবে ১ কোটি ১২ লাখ ডলারের বেশি। এর আগে মে মাসে প্রতিটি আয়োজক শহরের জন্য ৩৭৫ ডলার মূল্যের সীমিত সংস্করণের জার্সিও বাজারে এনেছিল ফিফা।

মাঠের মান নিয়ে বিতর্ক: যে মাঠের ঘাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে এত কাড়াকাড়ি, সেই মাঠের মান কিন্তু মোটেও প্রশ্নাতীত নয়। গত মাসে ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এই ঘাস উত্তর ক্যারোলাইনার একটি ফার্ম থেকে এনে মে মাসের শুরুতে স্টেডিয়ামে বসানো হয়েছিল। কিন্তু টুর্নামেন্টের আগের রাউন্ডের ম্যাচগুলো খেলার পর ব্রাজিল ও ফ্রান্সের খেলোয়াড়েরা এই মাঠের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের মতে, মাঠটি বেশ শুষ্ক এবং সেখানে স্বাভাবিক ফুটবল খেলা চালানো বেশ কঠিন। তবে মাঠের মান নিয়ে সমালোচনা থাকলেও, সেই মাঠের ঘাস বিক্রি করেই কোটি ডলার আয়ের অভিনব এক বাণিজ্য মেতেছে ফিফা।

কমেন্ট বক্স