বাংলার প্রতিচ্ছবি: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকটের মুখে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩ লাখ ৯০ হাজার টন ডিজেল এবং ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল আমদানির একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দ্রুতই এই তেল সরবরাহ প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে।
আমদানি প্রক্রিয়া ও ব্যয়ের হিসাব: জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাসের চাহিদার বিপরীতে বিপিসির পাঠানো প্রস্তাবটি গত ১০ জুন মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদিত হয়। সোনালী ব্যাংকের ডলারের বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১২৩.২৫ টাকা) অনুযায়ী এই আমদানিতে সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৬ মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং ডলারের হারের কারণে প্রকৃত ব্যয় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। এই আমদানির অর্থ বিপিসির নিজস্ব তহবিল এবং প্রয়োজনে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।
মজুত সক্ষমতা ও বৈশ্বিক সংকট: বিপিসির ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো এই মজুত সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করা। মূলত ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া নতুন সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালির ঝুঁকির কারণে জাহাজগুলোকে দীর্ঘ বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে ট্রানজিট সময় ও পরিচালন ব্যয়ের পাশাপাশি বিমা প্রিমিয়ামও বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ডিজেলের গড় দর ব্যারেল প্রতি ৮৫.৯৯৭ ডলার থাকলেও এপ্রিলে তা একলাফে ১৮৭.৯০৪ ডলারে পৌঁছায়।
ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই: জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্ববাজার অস্থিতিশীল হলেও দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ডলার সংকটের মধ্যেও তেল আমদানির এলসি (LC) খোলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ফলে দেশের শিল্প উৎপাদন, কৃষিকাজ এবং আকাশপথের যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে সরবরাহ চেইনে কোনো ধরনের বাধা বা সংকটের আশঙ্কা নেই। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণে একটি স্বয়ংক্রিয় ফর্মুলাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।