ঢাকা | ০৬ অগাস্ট ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তির কাছাকাছি ইরান

বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

প্রকাশের তারিখ: অগাস্ট ৬, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য একটি বিকল্প ও নতুন নৌপথ তৈরিতে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, চুক্তিটি এখন ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ রয়েছে। তবে একই সাথে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছেন, কেবল ওমানের সঙ্গে এই চুক্তি হলেই প্রণালিতে সম্পূর্ণ নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত হবে না। কারণ, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বজায় রাখা নৌ অবরোধের কারণে ওই এলাকার সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

নতুন নৌপথ ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ইরনা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন—ওমানের সঙ্গে সমঝোতা হওয়া প্রস্তাবিত এই নৌপথটি হবে সাময়িক, যা আগামী দুই থেকে চার মাস পর্যন্ত খোলা রাখা হতে পারে। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

এদিকে, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ পথটি বন্ধ থাকা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মঙ্গলবার চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানকে ‘খুব কঠোর আঘাত’ হানা হবে।

টোল আদায় নিয়ে মতবিরোধ ও তেলের বাজার: প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মূল বিরোধ দেখা দিয়েছে জাহাজের ওপর টোল বা ‘ফি’ আদায় করা নিয়ে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী:

  • ইরানের দাবি: প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্যমূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি আদায় করতে চায়।

  • ওমানের প্রস্তাব: তারা প্রায় ৩ শতাংশ ফি নিয়ে মধ্যস্থতার আলোচনা করছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: কোনো ধরনের ফি দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

সমঝোতার খবরের প্রভাবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে এশিয়ার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ২৪ ডলারে নেমেছে।

মুজতাবার অনুপস্থিতি ও পেজেশকিয়ানের বক্তব্য: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন ছেলে মুজতাবা খামেনি। তবে যুদ্ধের শুরুতে চোট পাওয়ার পর থেকে এবং বাবার জানাজা ও দাফনে অনুপস্থিত থাকায় মুজতাবাকে নিয়ে নানামুখী জল্পনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান চরম নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে মুজতাবা খামেনির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা ‘খুবই কঠিন’ হলেও সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। অসৎ কোনো মহলের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কমেন্ট বক্স