বাংলার প্রতিচ্ছবি. সৌরভ চ্যাটার্জী :(খুলনা প্রতিনিধ) খুলনা নগরীর গল্লামারি, সোনাডাঙ্গা ও দৌলতপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তীব্র লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। দিনের পর দিন এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরবর্তী এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার চিত্র এখন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। অনেক সময় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পরপরই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্ধারিত কোনো সময়সূচি ছাড়াই হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, আবার কখন আসবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের দুর্ভোগ বেড়ে যাচ্ছে। গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।
গল্লামারি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে, আবার এক ঘণ্টা থাকে না। অনেক সময় আধা ঘণ্টা পরপরই চলে যায়। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।” একই অভিযোগ সোনাডাঙ্গা ও দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দাদেরও।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা চলমান, পাশাপাশি মাস্টার্স পরীক্ষাও চলছে এবং আগামী ৩০ তারিখ থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষাও শুরু হতে যাচ্ছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ও পড়াশোনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, লোডশেডিংয়ের কারণে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছেন না, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি স্বরূপ হয়ে উঠছে।
ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশাজীবীরাও এই পরিস্থিতিতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ ব্যাহত হচ্ছে, আর অনলাইননির্ভর কাজগুলোও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
নাগরিকদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক এবং একটি নির্দিষ্ট লোডশেডিং সময়সূচি প্রকাশ করা হোক। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।
খুলনার এই দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং সমস্যা কবে নাগরিকদের মুক্তি দেবে—এ প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে।