ঢাকা | ৩১ মার্চ ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

৯ মাসের নয় ৬ মাসে হামের টিকা : জুনে শুরু বিশেষ কর্মসূচি

প্রকাশের তারিখ: মার্চ ৩১, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728
বাংলার প্রতিচ্ছবি: সারাদেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান টিকাদান নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিয়মিত সুপারিশের বাইরে গিয়ে বিশেষ পরিস্থিতিতে এখন থেকে ৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়স থেকেই শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই লক্ষ্য পূরণে আগামী জুনের শুরুতে মাসব্যাপী একটি বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সারাদেশের প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় টিকাদান কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির এক সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কেন এই পরিবর্তন? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান প্রাদুর্ভাবে দেখা গেছে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বেশি। এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধুমাত্র বিশেষ এই ক্যাম্পেইনের জন্য টিকার বয়সসীমা কমিয়ে ৬ মাস করার সুপারিশ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশীদ বলেন, “দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ পরিস্থিতিতে ৬ মাস বয়সী শিশুদের প্রথম ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি আগের নিয়মেই (৯ মাস) চলবে।” তিনি আরও জানান, এই বিশেষ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কার্যকারিতা ও চ্যালেঞ্জ বর্তমানে ডব্লিউএইচওর নিয়ম অনুযায়ী শিশুদের ৯ মাসে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। ৯ মাসের আগে টিকার কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছুটা মতভেদ রয়েছে। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সাবেক প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, “৯ মাস বয়সে টিকা দিলে প্রায় ৮৫ শতাংশ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে ৬ মাসে টিকা দিলে এর কার্যকারিতা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে আসতে পারে। তারপরও বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী আগাম টিকা দেওয়া সম্ভব।”

অর্থ বরাদ্দ ও প্রস্তুতি সংক্রমণ মোকাবিলায় টিকা সংগ্রহের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত হাসপাতাল সুবিধা, আইসিইউ বেড ও ভেন্টিলেটর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ইপিআই-এর তথ্যমতে, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত হাম ছড়িয়ে পড়ছে। ইপিআই-এর উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, ইতোমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে গেছে। প্রাদুর্ভাবটি এখন আর নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কমেন্ট বক্স