বাংলার প্রতিচ্ছবি: করদাতাদের ভ্যাট রিফান্ড পেতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে সম্পূর্ণ অটোমেটেড পদ্ধতিতে অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড ব্যবস্থা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন থেকে করদাতারা সরাসরি নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভ্যাট রিফান্ডের অর্থ পাবেন।
এ লক্ষ্যে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত ই-ভ্যাট সিস্টেমে যুক্ত করা হয়েছে একটি পৃথক রিফান্ড মডিউল। এটি অর্থ বিভাগের আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমের সঙ্গে সমন্বিত, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) ব্যবহার করে করদাতার নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ পাঠানো হবে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকার রাজস্ব ভবনে অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। উদ্বোধনের অংশ হিসেবে ঢাকার তিনটি ভ্যাট কমিশনারেটের আওতাধীন তিন জন করদাতার ব্যাংক হিসাবে সরাসরি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ভ্যাট রিফান্ড পাঠানো হয়। অনুষ্ঠানে করদাতাদের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, এখন থেকে ভ্যাট রিফান্ডের জন্য করদাতাদের আর ভ্যাট কার্যালয়ে যেতে হবে না। মাসিক মূসক রিটার্ন দাখিলের সময়ই অনলাইনে রিফান্ডের আবেদন করা যাবে। আবেদন সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারেট যাচাই ও অনুমোদনের পর প্রাপ্য অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতার ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।
তিনি বলেন, করদাতা অনেক সময় ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে আমাদের টাকা দেয়। এটি তার ন্যায্য পাওনা। সেই টাকা ফেরত পেতে যদি তাকে দফতরে দফতরে ঘুরতে হয়, তাহলে তা আমাদের ব্যর্থতা। নতুন এই ব্যবস্থায় সময় ও খরচ দুটোই কমবে, পাশাপাশি কর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, নতুন ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যেই অনলাইনে রিফান্ড আবেদন করা সম্ভব হবে। করদাতা নিজেই ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেবেন, যা এনবিআরের রেকর্ডে সংরক্ষিত থাকবে। শুধু ‘রিফান্ড চাই’ বাটনে ক্লিক করলেই আবেদন সম্পন্ন হবে।
এনবিআর সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ১১৫টি প্রতিষ্ঠান প্রায় ১২৪ কোটি টাকা ভ্যাট রিফান্ডের আবেদন করেছে। মোট প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।
এনবিআর আরও জানায়, সংস্থাটির সব কার্যক্রম ধাপে ধাপে ডিজিটাল করার কাজ চলছে। কর ব্যবস্থাপনাকে সহজ, স্বচ্ছ ও করদাতাবান্ধব করতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে রিফান্ড সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য বা সহযোগিতার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।