ঢাকা | ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

রংপুরে শিক্ষক পরিবারের ৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা, গ্রেপ্তার ২: ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশের তারিখ: অগাস্ট ২৩, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি: একটি তালাবদ্ধ বাড়ি, চারপাশে সুনসান নীরবতা আর তার ভেতরে জমে থাকা স্বজনদের জমাট রক্ত। শিক্ষক পরিবারের সব সদস্যকে একে একে স্তব্ধ করে দেওয়ার এই নৃশংস ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল রংপুরে। নেশার ঘোরে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে কীভাবে একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে, তদন্তের পর উন্মোচিত হলো তার সেই রোমহর্ষক ঘটনাপঞ্জি।

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের রোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ, তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই। পুলিশ কমিশনার জানান, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন তারা দুজন।

পুলিশি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ সূত্রে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শিক্ষক পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন অভিযুক্ত দুজন ওই বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিল। ছাদে শব্দের টের পেয়ে খালি গায়ে ও গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় সেখানে যান শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী। সেখানে ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার নিজের গলার গামছা পেঁচিয়েই তাকে প্রথম হত্যা করে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ।

এরপর নিচে শব্দ পেয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে যান গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী। তাকে সিঁড়িতেই আক্রমণ করে একইভাবে হত্যা করা হয়। বাবা-মায়ের চিৎকার বা শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন মাস্টার্স পড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রাপ্তি। তাকেও গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় দুজন। চার-পাঁচ মিনিট ধরে চেষ্টা করেও কাবু করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত রশি দিয়ে পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

সবশেষে পুরো হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি যেন কেউ প্রকাশ করতে না পারে এবং নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে ওই দম্পতির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী পিয়মকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা।

এর আগে গতকাল শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী এবং ছেলে আয়ুশের বস্তাবন্দী ও নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

কমেন্ট বক্স