বাংলার প্রতিচ্ছবি, প্রিন্স মন্ডল অলিফ (বাগেরহাট প্রতিনিধি):বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় স্বামীর হামলায় রহিমা আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূ গুরুতর আহত হয়েছেন। অভিযুক্ত স্বামী সোহেল শেখ ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার চরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে দম্পতির মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা উত্তপ্ত হয়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সোহেল শেখ একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে রহিমার উপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান।
গুরুতর আহত অবস্থায় বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রহিমা আক্তার জানান, তাদের ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি প্রায় দুই বছর ধরে তেরখাদা উপজেলার রামমাঝি গ্রামে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তবে সোহেল শেখ মাঝে মধ্যে সেখানে যেতেন এবং তাকে ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করতেন।
তিনি আরও বলেন, ছেলেকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি স্বামীর বাড়িতে যান। জন্মসনদ তৈরির জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে সোহেল ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে আঘাত করতে থাকেন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানান, আহত নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।