বাংলার প্রতিচ্ছবি: হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি সামরিক জাহাজ চলাচল নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অতিক্রমের কোনো চেষ্টা করলে বিদেশি সামরিক জাহাজকে ‘কঠোর ও শক্ত জবাব’ দেওয়া হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির ওপর বর্তমানে ‘পূর্ণ ও বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রেখেছে। এখন থেকে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কেবল বেসামরিক জাহাজগুলোকেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং সতর্ক করা হয়েছে যে, কোনো সামরিক অনুপ্রবেশ ঘটলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল আম্বিয়া’ জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নির্দেশনায় এই জলপথের ব্যবস্থাপনা এখন একটি ‘নতুন পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল এবং ২০ শতাংশ এলএনজি এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে, ফলে এই উত্তেজনায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রোববার (১২ এপ্রিল) আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের আতিথেয়তায় গত ২১ ঘণ্টা ধরে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়েছে। জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, "আলোচনায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি খারাপ খবর।"
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ওয়াশিংটন তাদের ‘রেড লাইন’ বা অগ্রহণযোগ্য সীমারেখাগুলো স্পষ্টভাবে তেহরানের কাছে তুলে ধরেছে। কোন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড় দেবে আর কোনটিতে নয়, তা পরিষ্কার করা হলেও ইরান সেই শর্তগুলো মেনে নেয়নি। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনার সমাপ্তি ঘটল। ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালিতে কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে নতুন করে আরও জটিল করে তুলল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তান ছাড়ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট