ঢাকা | ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ট্রাম্পের

প্রকাশের তারিখ: এপ্রিল ৭, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলার প্রতিচ্ছবি:  ইরানের সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো উড়িয়ে দেওয়ার যে নজিরবিহীন হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সামরিক আইন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই হুমকির পর বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এই খবর নিশ্চিত করেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সোমবার এক সতর্কবার্তায় জানান, আন্তর্জাতিক আইনে বেসামরিক অবকাঠামোতে এ ধরনের নির্বিচার হামলা নিষিদ্ধ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো স্থাপনা সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হলেও সেখানে হামলা চালানো যাবে না যদি তাতে বেসামরিক মানুষের অত্যধিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং অধ্যাপক রাচেল ভ্যানল্যান্ডিংহাম বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করলে হাসপাতাল ও পানি শোধন প্ল্যান্টগুলো অচল হয়ে পড়বে, যার ফলে অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে তিনি বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার তোয়াক্কা করছেন না।

তবে আন্তর্জাতিক আইনের এই তোয়াক্কা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে সম্পূর্ণ নির্বিকার। সোমবার তিনি সরাসরি বলেন, ধ্বংসযজ্ঞের হুমকি দিয়ে তিনি যুদ্ধাপরাধ করছেন কি না, তা নিয়ে তিনি ‘আদৌ’ চিন্তিত নন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘জ্বলবে, বিস্ফোরিত হবে এবং আর কখনোই ব্যবহারের যোগ্য থাকবে না।’ এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেছেন, ইরানের সাধারণ মানুষ এই হামলাকে স্বাগত জানাচ্ছে কারণ তারা তাদের শাসকদের পতন চায়।

ইউএস নেভাল ওয়ার কলেজের ইমেরিটাস অধ্যাপক মাইকেল স্মিট এই হুমকিকে ‘স্পষ্টতই একটি বেআইনি কাজের হুমকি’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন একে ‘আদর্শ যুদ্ধাপরাধের নমুনা’ বললেও রিপাবলিকান সিনেটর জনি এরনস্ট ট্রাম্পের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, এটি কোনোভাবেই যুদ্ধাপরাধ নয় বরং এটি একটি চলমান অভিযান। অধ্যাপক ভ্যানল্যান্ডিংহাম সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের বাগাড়ম্বর সাধারণ ইরানিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই নেতিবাচক ফল বয়ে আনবে এবং ইরান সরকারকে জনমত গঠনে সাহায্য করবে।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। ইরানের অবরোধের কারণে এই পথ বর্তমানে বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাতের মধ্যে এই নৌপথ খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে ডেডলাইন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সময়সীমার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

কমেন্ট বক্স