বাংলার প্রতিচ্ছবি: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, টিকাবিরোধী অপপ্রচার ও কুসংস্কারের কারণে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এটি নিরসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসক সমাজ ও জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রাটি জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, বর্তমানে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহ হামের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত ১২-১৩ মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে এই রোগে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও কেন হামের মতো রোগ নির্মূল হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও একটি ‘অ্যান্টি-ভ্যাকসিন’ গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যারা সমাজে অন্ধত্ব ও ভুল ধারণা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিজ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ ও টিকার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা না গেলে সুস্বাস্থ্য এবং কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা স্বাস্থ্য খাতে গবেষণার অপ্রতুল বরাদ্দের সমালোচনা করে বলেন, দেশে মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল থাকলেও সেখানে গবেষণার জন্য বরাদ্দ খুবই সামান্য। দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকার বাজেটে গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালানো অসম্ভব। এর ওপর জার্নাল রিভিউতে ২৩ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হওয়ায় গবেষণার ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। তিনি সরকারকে গবেষণার খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গত ১৫ বছর এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য খাতের অবহেলার কথা উল্লেখ করে বর্তমান জনবান্ধব সরকারকে এ খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এবারের বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান এবং সুরক্ষিত সবার জীবন’ উল্লেখ করে রিজভী আশা প্রকাশ করেন যে, দেশপ্রেমিক চিকিৎসক সমাজ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হামের মতো মহামারিপ্রবণ রোগ মোকাবিলায় দ্রুত ও যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল ইসলামসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও নার্সরা।