বাংলার প্রতিচ্ছবি: বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বিভিন্ন বিভাগ ও বিমানবন্দরে একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি বিধি-নিষেধ তোয়াক্কা না করে বছরের পর বছর একই পদে জেঁকে বসেছেন। জানা গেছে, প্রশাসনিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কেউ ১০ বছর, কেউ ১৬ বছর, আবার কেউ সর্বোচ্চ ২৬ বছর পর্যন্ত একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তারা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে সংস্থার ভেতরে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সম্প্রতি বেবিচকের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই অনিয়মের বিষয়ে সরব হয়েছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে এই অনিয়ম সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘ সময় একই স্থানে কর্মরতদের মধ্যে ওয়াহিদা ওলিউর ইসলাম ও কাজী ফৌজিয়া নাহার ২৬ বছর ধরে একই পদে আছেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাফরুল হাসান রয়েছেন ২২ বছর ধরে। এছাড়া আবুল খায়ের ইবনে আলী, হাবিবা আফরোজ, সামসুন্নাহার লিজা ও সুশান্ত কুমার বিশ্বাস ১৯ বছর এবং সুব্রত চন্দ্র দে ও মো. সেলিম মিয়া ১৮ বছর ধরে একই দফতরে কর্মরত। আবু মো. ওমর শরীফ, মোশাররফ হোসেন ও জিয়াউর রহমানসহ অন্তত ১০ জন ১৬ বছর ধরে একই পদে বহাল আছেন। ফায়ার বিভাগের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ১২ বছর এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মুমিনুল ইসলাম ও লিটন চন্দ্র সরকার ১০ বছর ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এসব ব্যক্তিদের একাধিকবার বদলি করা হলেও রহস্যজনক কারণে তা বারবার স্থগিত হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, যখনই তাদের বদলির প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখনই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভয় দেখাতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) বেনামি ‘উড়ো চিঠি’ পাঠানো হয়। এই কৌশলী ভীতি প্রদর্শন ও লবিংয়ের মাধ্যমেই তারা বছরের পর বছর একই স্থানে টিকে আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার ও বেবিচক কর্মচারী অভিযোগ করেছেন যে, এই সিন্ডিকেটের কারণে টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। দীর্ঘ সময় একই দফতরে থাকায় তারা একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেছেন, যার ফলে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী একই পদে এত বছর থাকার কোনো সুযোগ নেই। কারা কত বছর ধরে আছেন, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকাটি যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানের কাছে পেশ করা হবে। বেবিচকের অন্য এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই অভিযুক্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই তাদের ওই সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মুমিনুল ইসলাম দাবি করেছেন যে তিনি ১০ বছর নয় বরং ২০২১ সাল থেকে এই পদে আছেন। অন্যদিকে রেজা সেলিম জানান, কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তিনি আছেন এবং কর্তৃপক্ষ চাইলে তিনি যেকোনো সময় পদ ছেড়ে দিতে রাজি। বেবিচকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন যাতে প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও নিয়ম শৃঙ্খলা ফিরে আসে।