ঢাকা | ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ইং | বঙ্গাব্দ

প্লট দুর্নীতির মামলার শেখ রেহানার রায় ১ ডিসেম্বর

প্রকাশের তারিখ: নভেম্বর ২৫, ২০২৫ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728
বাংলার প্রতিচ্ছবি: পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে ৩০ কাঠা রাজউকের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা মামলায় শেখ রেহানাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে রায়ের দিন আগামী ১ ডিসেম্বর ধার্য করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) যুক্তিতর্ক শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম এ আদেশ দেন। দুদক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

অন্যদিকে এ মামলায় শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগে করা মামলার বিচার চলছে। গত রবিবার আজমিনার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য থাকলেও তা হয়নি। এসময় একমাত্র আত্মসমর্পণ করা গ্রেফতার আসামি রাজউকের সদস্য খুরশীদ আলমকে কারাগারে থেকে আদালতে হাজির করা হয়।

শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ নেওয়া প্লটের বিষয়ে ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরস্পর সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ছয়টি মামলায় গত ১০ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।

এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিরা হলেন, রাদওয়ান মুজিব ববি, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য মেজর (ইঞ্জিনিয়ার) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন। 

প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে পৃথক ৬ মামলা করে দুদক। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অন্য মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়। সবগুলো মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। 

মামলার অভিযোগে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ওপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তারা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের সর্বনিম্ন সাজা এক বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন হতে পারে বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন দুদক প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম ও মইনুল হাসান লিপন। 

টিউলিপ সিদ্দিকীর নামে কোনও প্লট না থাকার পরেও তার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন হতে পারে কিনা জানতে চাইলে দুদক প্রসিকিউটর বলেন, এটি ১০৯ ধারায় প্রভাবিত করার জন্য এ শাস্তির আওতায় আসবেন টিউলিপ সিদ্দিকী। কারণ টিউলিপ ব্রিটিশ নাগরিক হওয়ায় সরাসরি প্লট নিতে পারতেন না। কিন্তু তার খালা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করার জন্য এ মামলায় বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবনের আওতায় আসবেন। 

সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন কতদিন শাস্তি হতে পারে প্রশ্নের জবাবে দুদক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম জানান, ধারা অনুযায়ী সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন হতে পারে। আদালতের কাছে আমরা সর্বোচ্চটাই চেয়েছি কারণ আসামিরা পলাতক থেকে আইনকে উপেক্ষা করে এড়িয়ে গেছেন। বিধান অনুযায়ী আইনকে শাস্তির ভয়ে এড়িয়ে গিয়ে পলাতক হলে তারা সর্বোচ্চ শাস্তির আওতাভুক্ত হবেন।

কমেন্ট বক্স