বাংলার প্রতিচ্ছবি. মো. আব্দুর রহিম (ভাঙ্গুরা পাবনা):- পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ঘুষের ২১ লাখ টাকা ফেরত নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন এলাকার চাকরিপ্রার্থীরা। সোমবার সকাল থেকে খানমরিচ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগরের বিরুদ্ধে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন সকল শ্রেণীর মহিলা পুরুষ ছেলে-মেয়ে ভুক্তভোগীরা।
চাকরি প্রার্থীরা বলেন, চাকরি দেওয়ার নাম করে অধ্যক্ষ আমাদের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা বিভিন্ন সময়ে ঘুষ নিয়েছে। অথচ আমাদের চাকরি না দিয়ে অধ্যক্ষ নিজের আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকদের চাকরি দিয়েছে। বিক্ষোভ সমাবেশে ভুক্তভোগীরা জানায় অধ্যক্ষ এখন আমাদের চাকরি দেবে,চাকরি না হলে টাকা ফেরত দিতে হবে।

প্রত্যক্ষদর্শে জানা যায়, ২০০০ সালে পাবনা জেলার ভাঙ্গুরা উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের চন্ডিপুর বাজারে খানমরিচ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ স্থাপিত হয় । সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল হোসেন সাগর অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। ২০১৯ সালে স্কুল শাখা এমপিওভুক্ত হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে , ১ মাস আগে কলেজটিতে নৈশ্যপ্রহরী পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে অধ্যক্ষ। এতে চার চাকরি প্রার্থী আবেদন করেন। ১ মে ছুটির দিনে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নিয়োগ পরীক্ষার আগে মোফাজ্জল হোসেন চাকরি দেয়ার কথা বলে খানমরিচ গ্রামের বাসিন্দা লিমন নামে এক চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা ও হেলাল উদ্দিন নামে এক চাকরি প্রার্থীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা ঘুষ নেন।
এছাড়া ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে অফিস সহকারী পদে নুরুজ্জামান নামে একজনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা এবং ২০০২ সালে কম্পিউটার অপারেটর পদে তোফায়েল আহমেদ নামে একজনের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগর বলেন, গ্রামবাসী ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছে। আমি কারো কাছ থেকে ঘুষ নেইনি। স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আরিফুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।