ঢাকা | ০৪ জানুয়ারী ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এর কড়া হুঁশিয়ারির পর ইরানের পাল্টা হুমকি

প্রকাশের তারিখ: জানুয়ারী ৩, ২০২৬ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728
বাংলার প্রতিচ্ছবি: বর্তমানে ইরানে চলমান অস্থিরতায় মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে দ্রুত, নিষ্পত্তিমূলক এবং ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশটিতে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ইতিমধ্যে অন্তত ১০ জন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদেরকে হত্যার বিরুদ্ধে ইরান কর্তৃপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদেরকে হত্যা করলে ‘তাদেরকে উদ্ধারে’ ওয়াশিংটন এগিয়ে আসবে।


এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানি কর্মকর্তারা এই কড়া বার্তা দিলেন।

স্কাই নিউজ লিখেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ট্রাম্পের এই ‘ভীতি প্রদর্শনমূলক বক্তব্যের’ নিন্দা জানায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ানোর’ অভিযোগ তোলে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে দ্রুত, নিষ্পত্তিমূলক এবং ব্যাপক।”


এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক্স-এ বিক্ষোভের একটি ভিডিও শেয়ার করে বলেছে, “ইরানি জনগণের সাহস অনস্বীকার্য।”

দমনের মুখেও বিক্ষোভকারীদের দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসাও করেছে তারা।

২০২২ সালে পুলিশ হেফাজতে ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যে গণবিক্ষোভ হয়েছিল, তারপর এবারের বিক্ষোভকেই সবথেকে বড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অস্থিরতা এখন পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বুধবার থেকে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে। এর মধ্যে কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী দুইজন রেভোলিউশনারি গার্ডসের অনুসারী আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর সদস্য।

নরওয়েভিত্তিক কুর্দিস মানবাধিকার সংস্থা হেনগোউ-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত ১৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১২ জন নারী এবং ৮ জন শিশু রয়েছে।

গত রোববার রাজধানী তেহরানে অর্থনৈতিক দুর্দশার বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের ফলে আকাশচুম্বী পণ্যমূল্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইরানের অর্থনীতি।
কমেন্ট বক্স