ঢাকা | ৩১ অগাস্ট ২০২৫ ইং | বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে আসন কমানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে মোল্লাহাট-চিতলমারীতে হরতাল-অবরোধ

প্রকাশের তারিখ: অগাস্ট ২৪, ২০২৫ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728
প্রিন্স মন্ডল অলিফ (বাগেরহাট প্রতিনিধি) : বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে রবিবার জেলার বিভিন্ন স্থানে সর্বাত্মক হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

মোল্লাহাটে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সর্বদলীয় কমিটির ডাকে অবরোধ পালিত হয়। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল নিয়ে হাজারো মানুষ উপজেলা সদর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নেন। তারা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মোল্লাহাট সেতু এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন।

অবরোধ চলাকালে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, প্রায় এক হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাগেরহাট বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ জেলা। এখানে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন, ষাট গম্বুজ মসজিদ ও খানজাহান আলীর মাজারের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ জেলায় চারটি আসন থাকা যৌক্তিক হলেও নির্বাচন কমিশন একটি আসন কমিয়ে তিনটিতে নামিয়ে এনেছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

তারা জানান, আসন কমানোর প্রতিবাদে সর্বদলীয় কমিটি ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আগামী সোমবার (২৫ আগস্ট) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এ বিষয়ে শুনানি হবে। সেখানে দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।


অবরোধ চলাকালে বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সাবেক সিনিয়র সচিব ডা. মো. ফরিদুল ইসলাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সর্বদলীয় কমিটির আহ্বায়ক শেখ হাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন আল রশীদ প্রমুখ। সভায় বিএনপির সাবেক সভাপতি চৌধুরী সেলিম আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে চিতলমারীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হয়। সকাল থেকেই মচন্দপুর মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ, টায়ার জ্বালানো ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে ঢাকা–মাওয়া–পিরোজপুর মহাসড়কসহ উপজেলা অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকলেও জরুরি সেবা চালু ছিল।

হরতালে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মমিনুল হক টুলু বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হাসান অপু, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মনিরুজ্জামান, সেক্রেটারি জাহিদুজ্জামান নান্না, ইসলামী আন্দোলনের উপজেলা সভাপতি কাজী আবুল কালাম, যুবদল আহ্বায়ক জাকারিয়া মিলন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. নেয়ামত আলী খানসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাগেরহাটে চারটি আসন ছিল। নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবিত সিদ্ধান্ত জেলা বাসীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। এতে রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে এবং উন্নয়নে বৈষম্য সৃষ্টি করবে।

তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি মানা না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কমেন্ট বক্স