বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরকার নির্ধারিত দাম ১৭০ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা ২০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। একইভাবে ১৮৫ টাকার খোলা সয়াবিন ও ১৬২ টাকার পাম অয়েলের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বেসরকারি ভোক্তা সংগঠন ক্যাব (CAB) জানিয়েছে, শীর্ষ কয়েকটি গ্রুপ আমদানি, পরিশোধন ও বিপণন নিয়ন্ত্রণ করে ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাজার থেকে বোতলজাত তেল কার্যত উধাও হয়ে গেছে এবং ক্রেতারা চড়া দামে খোলা তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নিজে বাজারে গিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তদারকি জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। চট্টগ্রামে র্যাব অভিযান চালিয়ে ২২ হাজার ৬৪২ লিটার অবৈধভাবে মজুত করা সয়াবিন তেল জব্দ করেছে এবং দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে। ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের দুর্বল তদারকির সুযোগে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে তারা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন, যার মধ্যে মজুতদারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিয়মিত কঠোর অভিযানের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো অবশ্য কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা জানান, বৈশ্বিক সংকট ও জাহাজ ভাড়া বাড়লেও তারা সরকার নির্ধারিত দামেই সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান জানিয়েছেন, বাজারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঈদের পর থেকে শুরু হওয়া এই অস্থিরতা কাটাতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হলেও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে এখনো স্বস্তি ফেরেনি।