ঢাকা | ২৮ মার্চ ২০২৬ ইং | বঙ্গাব্দ

তৃণমূল থেকে জাতীয় রাজনীতি: এক অদম্য সংগ্রামের প্রতিকৃতি অ্যাডভোকেট এম. কামরুজ্জামান

প্রকাশের তারিখ: মার্চ ২৮, ২০২৬ ইং

অ্যাডভোকেট এম. কামরুজ্জামান ছবির ক্যাপশন: অ্যাডভোকেট এম. কামরুজ্জামান
ad728
বাংলার প্রতিচ্ছবি : ঝিনাইদহের এক ছোট্ট জনপদ থেকে উঠে আসা অ্যাডভোকেট এম. কামরুজ্জামান আজ জাতীয় রাজনীতির অঙ্গনে একটি পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। দুর্লভপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ থেকে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা একসময় পৌঁছে যায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে। মেধা ও অধ্যবসায়ের সমন্বয়ে সেখান থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি পা রাখেন রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে।

ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়েন। সাহসিকতা, নেতৃত্বগুণ ও সংগঠন পরিচালনার সহজাত দক্ষতা তাকে দ্রুতই সতীর্থদের মধ্যে আলাদাভাবে পরিচিত করে তোলে। তবে এই পথ কখনো মসৃণ ছিল না। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে দমন-পীড়ন, নির্যাতন এবং বারবার কারাবরণের মতো কঠিন বাস্তবতা। প্রায় সতেরো বছরের জেল-জুলুমের ইতিহাসে তার নাম অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে উচ্চারিত হয় এবং সংগ্রামের বিচারে রাজনৈতিক মহলে তার অবস্থান প্রথম পঞ্চাশজনের মধ্যেই বলে ব্যাপকভাবে আলোচিত।

বর্তমানে তিনি যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকেও তিনি নিজেকে সর্বদা দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এই বিনয় ও আত্মপ্রত্যয়ের সমন্বয়ই তাকে নেতাকর্মীদের কাছে করে তুলেছে বিশেষভাবে আপনজন।

তার রাজনৈতিক জীবনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের প্রতি তার গভীর সহমর্মিতা। বিএনপির যেকোনো নেতাকর্মী কিংবা তাদের পরিবারের কেউ বিপদে পড়ে তার দ্বারস্থ হলে, তিনি কখনো কাউকে খালি হাতে ফেরাননি। এই মানবিক গুণটিই তাকে দলীয় পরিমণ্ডলে একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

"বাংলার প্রতিচ্ছবি" পত্রিকাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরেন। পদ-পদবী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "পদবী একজন মানুষকে মানুষের উপকার করতে কিছুটা সহজ করে তোলে। তবে পদ না থাকলেও আমার কোনো আক্ষেপ নেই। আমি বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে সবসময় মানুষের পাশে থাকতে চাই।"

তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শই তার রাজনৈতিক প্রেরণার মূল উৎস। এই আদর্শের আলোকেই তিনি দীর্ঘ সংগ্রামের পথে টিকে থেকেছেন এবং সামনে এগিয়ে চলেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। তার ভাষায়, "আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো চলমান।"

অ্যাডভোকেট এম. কামরুজ্জামানের জীবন ও রাজনীতির গল্প আসলে এক অদম্য মানুষের গল্প, যেখানে ত্যাগ, সংগ্রাম, আদর্শনিষ্ঠা এবং মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা মিলে তৈরি হয়েছে এক অনুপ্রেরণার আলেখ্য।
কমেন্ট বক্স