ঢাকা | ৩১ অগাস্ট ২০২৫ ইং | বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা অমান্য ও আদালতকে ভুল বুঝিয়ে মান্নান ঢালির বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট

প্রকাশের তারিখ: অগাস্ট ৩০, ২০২৫ ইং

ছবির ক্যাপশন:
ad728

প্রতিদিনের বাংলার প্রতিচ্ছবি: চাঁদপুর শহরে হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা অমান্য করে এবং আদালতকে ভুল বুঝিয়ে মৃত মান্নান ঢালির বাড়িসহ তিন পরিবারের বাড়ি লুটপাট ও ভাঙচুর করে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ আগষ্ট চাঁদপুর শহরের কোড়ালিয়া রোডে এই ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ উঠেছে এডভোকেট সালেহ আহম্মেদ ও তার ছেলে এডভোকেট হাসিব, শেখ হাবিবুর রহমানের ছেলে দুলাল গংদের বিরুদ্ধে।

গত ১২ আগষ্ট নিম্ন আদালতের জারিকৃত ডিক্রী অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করে কিন্তু হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার কাগজ দেখে কোন উচ্ছেদ না করে অভিযান শেষ করেন প্রশাসন।


কিন্তু পরের ২ দিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন অভিযান না থাকলেও অভিযুক্তরা তিন পরিবারের স্থাপনায় এসে নিজেরা পুনরায় জোরপূর্বক সেসব পরিবারের বসতবাড়ী ভাঙ্গচুর ও লুটপাট করে বলেও জানায় ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ করে বলেন, মৃত হাজি আব্দুল মান্নান ঢালির বাড়ি, প্রবাসী আলহাজ হারুন মিয়ার বাড়ি এবং মেজর আকাশের বাড়িসহ ১৩ শতক জমির উপর থাকা স্থাপনা কোনো নোটিশ ছাড়াই ভেক্যু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ২০২৪ সালে দেওয়া হাইকোর্টের  স্থিতাবস্থার আদেশের কপি দেখালেও হামলাকারীরা তা উপেক্ষা করে জোরপূর্বক ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

ভুক্তভোগীরা আরো জানায়, ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি বাড়ির আসবাবপত্র, চাল-ডাল, কাপড়, নগদ টাকা, প্রায় ৪ ভরি সোনার গয়না, বৈদ্যুতিক পণ্য এবং তিনটি দোকানের মালামাল লুটে নেয় হামলাকারীরা। এমনকি বাড়ি ধ্বংসের সময় বেরিয়ে আসা রডগুলোও নিয়ে যায় তারা। আদালতকে ভুল বুঝিয়ে উচ্ছেদ আদেশটি করিয়ে নিয়ে প্রায় ১৩ শতক জমির স্থাপনা ধ্বংস করা হয়। এখন আমরা আতঙ্কে জীবনযাপন করছি।

অভিযোগে আরো বলা হয়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে নিয়ে এডভোকেট সালেহ আহম্মেদ, তার ছেলে এডভোকেট হাসিব, শেখ হাবিবুর রহমানের ছেলে দুলালসহ অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জন সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয়।


ভুক্তভোগীরা জানান, অস্ত্রধারী ৫০–৬০ জন হামলাকারী নারী, শিশু, বৃদ্ধ—কাউকেই রেহাই দেয়নি। প্রাণভয়ে পরিবারগুলো পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। দুই দিন ধরে চলা এই তাণ্ডবের সময় দেখার কেউ ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। চার দশকের বেশি সময় ধরে ওই জমিতে বসবাসকারী পাঁচটি পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।

পরে ১৫ আগষ্ট চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর বরাবার ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে মৃত. মান্নান ঢালীর ছেলে ফারুক ঢালী বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দাখিল করেন।

হাইকোর্টের স্থিতাবস্থা বিষয়ে এডভোকেট সালেহ আহম্মেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাইকোর্টের এই স্থিতাবস্থার কোন ডকুমেন্ট এখানে আসে নাই। হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার কোন কাগজ এই নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। হাইকোর্টের কোন রায় থাকলেতো অর্ডার থাকবে। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেতো কোন লাভ নেই।

আরেক অভিযুক্ত এডভোকেট সালেহ আহম্মেদ এর ছেলে এডভোকেট হাসিব একই সুরে বলেন,হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার কোন কাগজ এই নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয় নাই। হাইকোর্টের কোন রায় থাকলেতো অর্ডার থাকবে। হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার কাগজ দেখানোর কথা বললে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। 

এই বিষয়ে চাঁদপুরের ডেপুটি কালেক্টর আরমান বলেন, ১২ আগষ্ট আইন-শৃংখলা অবনতির জন্য আমি ওখানে গিয়ে ছিলাম। সেদিন কোন উচ্ছেদ হয়নি ।
https://www.facebook.com/share/v/1CPpfEfSW1/
কমেন্ট বক্স