প্রিন্স মন্ডল অলিফ (বাগেরহাট প্রতিনিধি) : আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের একটি বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে বাগেরহাট জেলার সংসদীয় আসন ৪টি থেকে কমিয়ে ৩টিতে রূপান্তরের প্রাথমিক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে চিতলমারীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহ এবং উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।
চিতলমারী উপজেলা সদরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গণবিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যায়িত করেন।
বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন চিতলমারী উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি জনাব মমিনুল হক টুলু বিশ্বাস। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “বাগেরহাটের ইতিহাস, ভৌগোলিক বিস্তৃতি, জনসংখ্যা ও রাজনৈতিক গুরুত্বের কথা বিবেচনায় নিলে সংসদীয় আসন হ্রাস করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটি জনগণের প্রতিনিধিত্ব হ্রাস করার এক গভীর ষড়যন্ত্র। যতদিন পর্যন্ত পূর্বের ৪টি আসন পুনর্বহাল করা না হবে, ততদিন আমাদের এই গণআন্দোলন চলতে থাকবে।”
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিব আহসান হাবীব ঠান্ডু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুবদল নেতা মোঃ শিপন মুন্সি, এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ—শিবপুর ইউনিয়নের সভাপতি শেখ নোয়াব আলী, চরবানিয়ারী ইউনিয়নের সভাপতি শেখ জাহিদুর রহমান, সন্তোষপুর ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম, সদর ইউনিয়নের সভাপতি খান মনিরুজ্জামান, বড়বাড়ীয়া ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম শেখ, কলাতলা ইউনিয়নের সভাপতি গাউস কাজি, হিজলা ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জামাল।
এছাড়াও উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল সহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত থেকে বিক্ষোভে সংহতি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, “জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে আসন সংখ্যা হ্রাস নয়, বরং যথাযথ প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত। তিনটি আসন মানা হবে না, চারটি আসন বহাল থাকুক—এটাই চিতলমারী উপজেলার প্রত্যেক নাগরিকের দাবি।”
তারা এ সিদ্ধান্তকে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, যার মাধ্যমে বাগেরহাট জেলার জনগণকে রাজনীতির মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে। আমরা এ ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই মেনে নেব না।”
বক্তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দাবির প্রতি দ্রুত সাড়া না দিলে রাজপথে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে এবং গণআন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় করা হবে।