প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 4, 2026 ইং
এক বছরে রফতানিতে ধস ১০ বিলিয়ন ডলার

বাংলার প্রতিচ্ছবি:- বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুই স্তম্ভ—রফতানি ও প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স)—বর্তমানে দুই বিপরীতমুখী ধারায় রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা এবং রেকর্ড সৃষ্টি হলেও রফতানি আয়ে বড় ধরনের পতনের কারণে সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত এক বছরের ব্যবধানে দেশ মোট ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা কম পেয়েছে।
রেমিট্যান্স ও রফতানির তুলনামূলক চিত্র: -বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১২ মাসে দেশে ২৭.৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। পরবর্তী ১২ মাসে (মার্চ ২০২৫ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬) তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১.৮ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার বা ১৬ শতাংশ। এমনকি চলতি বছরের মার্চ মাসে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়ে প্রবাসীরা এক মাসে সর্বোচ্চ আয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
বিপরীত চিত্র দেখা গেছে রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে। প্রথম ১২ মাসে ৫৪.৩ বিলিয়ন ডলার আয় হলেও পরবর্তী ১২ মাসে তা কমে ৪৪.৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। রফতানি আয়ে এই ৯.৭ বিলিয়ন ডলারের (১৮ শতাংশ) বড় পতনের ফলে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি দিয়েও ঘাটতি মেটানো সম্ভব হয়নি। ফলে দুই খাত মিলিয়ে মোট আয় ৮১.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৭৬.৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তৈরি পোশাক খাতে বড় ধাক্কা:- দেশের রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ জোগান দেওয়া তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে। ইপিবির তথ্যমতে, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে পণ্য রফতানি হয়েছে ৩৪৮ কোটি ডলারের, যা আগের বছরের একই মাসে ছিল ৪২৫ কোটি ডলার। টানা আট মাস ধরে রফতানি আয়ের এই নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।
পোশাক শিল্পের দুই প্রধান উপখাত—নিটওয়্যার ও ওভেন—উভয় ক্ষেত্রেই রফতানি কমেছে যথাক্রমে ২১ শতাংশ ও ১৭ শতাংশ। বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর থেকে অনেক ক্রেতা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছেন। ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নতুন অর্ডারের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে পড়েছেন।
বৈশ্বিক অস্থিরতা ও প্রতিযোগিতার প্রভাব:- রফতানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অতিরিক্ত শুল্ক এবং ইউরোপের বাজারে চীন, ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়াকেও এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও নীতিগত সহায়তার দাবি:- বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, "উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রফতানি গন্তব্য দেশগুলোতে ভোক্তা চাহিদা কমে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের অর্ডারের ওপর।"
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে সরকারের নীতিগত সহায়তা দাবি করেছেন উদ্যোক্তারা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রফতানি বাজার বৈচিত্র্যময় করা এবং উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো না গেলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
প্রকাশক : ফারুক শিকদার
সম্পাদক : হিল্লোল বাউলিয়া
অফিস : যোগাযোগ: ৭০১,রোড নং-১১, বাইতুল আমান হাউজিং,আদাবর, ঢাকা-১২০৭
ইমেইল : banglarproticchobi@gmail.com
মোবাইল : ০১৮২২-৯৯০৮৮৮, ০১৬৩৩-৬০৭২৫৫
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলার প্রতিচ্ছবি