
বাংলার প্রতিচ্ছবি: রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল জলিল মণ্ডলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজ মঙ্গলবার প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ প্রদান করেন। এর আগে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার সময় আব্দুল জলিল মণ্ডল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন এবং কর্মজীবনে তিনি র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।
গত বছর হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আজিজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ২১ জনকে অভিযুক্ত করে দায়ের করা এই মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল আগামী ৫ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন। শাপলা চত্বরের এই আলোচিত মামলায় আব্দুল জলিল মণ্ডল ছাড়াও বর্তমানে আরও পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ আসামি কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম এবং একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচির ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের সময় ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় পর এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করে নতুন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদেই এই নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের আজকের আদেশের পর আব্দুল জলিল মণ্ডলকে কঠোর নিরাপত্তা পাহারায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে এখন দেশবাসীর নজর রয়েছে।