প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Feb 2, 2026 ইং
লক্ষ্মীপুরের ৪৯৬ কেন্দ্রের ২১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ, শঙ্কায় ভোটাররা
বাংলার প্রতিচ্ছবি : লক্ষ্মীপুরের চারটি সংসদীয় আসনের ৪৯৬ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব কেন্দ্রে যাওয়া ভোটারদের মাঝে ভীতি আছে।
তবে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটারদের ভয়ের কোনও কারণ নেই।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চারটি আসনের এমপি প্রার্থী ও তাদের দলের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা নির্বাচনি পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে ভোটের দিন কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে নারী ভোটাররা সহিংসতার আশঙ্কা করছেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চারটি আসনের মধ্যে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নে দুই লাখ ৭৪ হাজার ২৬১ জন ভোটার। আসনটিতে পোস্টাল ভোটার সাত হাজার ৪০ জন। লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর-সদরের একাংশ) আসনে পৌরসভাসহ ১০টি ইউনিয়নে চার লাখ ৮৩ হাজার ৯৬২ জন ও পোস্টাল ভোটার ১০ হাজার ৬৩ জন। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে চার লাখ ৩৪ হাজার ৬০৫ ও পোস্টাল ভোটার নয় হাজার ৮৬৭ জন। লক্ষ্মীপুর-৪ (কমলনগর ও রামগতি) আসনে চার লাখ ১২ হাজার ২৯৩ ও পোস্টাল ভোটার পাঁচ হাজার ৮৬৫ জন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চারটি আসনের ৪৯৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১৮টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এসব আসনের কেন্দ্রগুলোতে এক হাজার ৩১৩ জন পুলিশ, ৬০০ সেনাবাহিনী ও ১০ প্লাটুন বিজিবিসহ প্রায় তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ভোটের চার দিন দায়িত্ব পালন করবেন।
আসনগুলোর একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চারটি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ৩৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ভোটারদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে। ভোটের দিন ও আগের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছেন তারা।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল খায়ের ভূঁইয়া বলেন, ‘একটি দলের প্রার্থী আমাদের দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এই আসন নিয়ে ঝামেলা করতে চায় তারা। ভোটের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছি আমরা। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।’
জামায়াতের প্রার্থী রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘একটি দলের প্রার্থী তার নেতাকর্মী দিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। গণসংযোগে বিএনপির নেতাকর্মীরা উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা আছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি আমরা।’
আসনগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি ফেনী ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব পালন করবে। এই ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোশারফ জানান, নির্বাচনকালীন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য। সরকার ও নির্বাচন কমিশনে নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। নিরাপত্তা জোরদার করতে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কার্যক্রম থাকছে। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্বাচনি এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান করবে বিজিবি। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রোবাস্ট পেট্রোলিং, অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল কার্যক্রম চলবে।
লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্যই সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের। পুলিশের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তায় তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারবেন।’
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান বলেন, ‘জেলার পাঁচটি উপজেলার চারটি সংসদীয় আসনে পৌরসভাসহ ৪৭টি ইউনিয়নে ৪৯৬টি কেন্দ্রের ২১৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটার ও এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আশা করছি কোনও ধরনের ঝামেলা হবে না। হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আমাদের প্রস্তুতি আছে।’
প্রকাশক : ফারুক শিকদার
সম্পাদক : হিল্লোল বাউলিয়া
অফিস : যোগাযোগ: ৭০১,রোড নং-১১, বাইতুল আমান হাউজিং,আদাবর, ঢাকা-১২০৭
ইমেইল : banglarproticchobi@gmail.com
মোবাইল : ০১৮২২-৯৯০৮৮৮, ০১৬৩৩-৬০৭২৫৫
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলার প্রতিচ্ছবি