প্রিন্ট এর তারিখঃ Feb 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 27, 2026 ইং
আটলান্টিকে ‘নারকো-সাব’ জব্দ, মিললো ৯ টন কোকেন

বাংলার প্রতিচ্ছবি: পর্তুগালের আজোরস দ্বীপপুঞ্জের কাছে আটলান্টিকে একটি ‘নারকো-সাব’ বা মাদকবাহী সাবমেরিন থেকে রেকর্ড ৯ টন কোকেন জব্দ করেছে দেশটির পুলিশ। ইউরোপের জলসীমায় এ ধরনের আধা-নিমজ্জিত যান থেকে উদ্ধার হওয়া মাদকের এটিই বৃহত্তম চালান বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
পর্তুগালের বিচার বিভাগীয় পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) সমন্বয় করেছে।
লাতিন আমেরিকা থেকে আসা এই সাবমেরিনটি আজোরস থেকে প্রায় ২৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে আটক করা হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র তখন উত্তাল ছিল। অভিযানের একপর্যায়ে সাবমেরিনটি ডুবে যায় এবং ৩৫ বেল কোকেন আটলান্টিকের তলদেশে তলিয়ে যায়। তবে পুলিশ এর আগেই ৩০০ বেল কোকেন জব্দ করতে সক্ষম হয়।
মাদকের এই চালানের বাজারমূল্য প্রায় ৬০ কোটি ইউরো। এই ঘটনায় সাবমেরিনে থাকা তিন কলম্বিয়ান ও এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পর্তুগিজ পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, এটি পর্তুগালের ইতিহাসে কোকেন জব্দের সবচেয়ে বড় ঘটনা।
আশির দশক থেকে লাতিন আমেরিকায় মাদক চোরাচালানে সাবমেরিনের ব্যবহার নিয়মিত হলেও ইউরোপের জলসীমায় ২০০৬ সালে প্রথম এর দেখা মেলে। স্পেনের পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কোকেনের দাম কমে যাওয়ায় পাচারকারী চক্রগুলো নতুন কৌশল নিচ্ছে। আগে তারা একবার ব্যবহারের পর সাবমেরিনগুলো ডুবিয়ে দিত। কিন্তু এখন খরচ বাঁচাতে মাঝসমুদ্রে জ্বালানি রিফুয়েলিং স্টেশন স্থাপন করে একই সাবমেরিন বারবার ব্যবহার করছে।
এদিকে পৃথক এক অভিযানে স্পেনের পুলিশ একটি বিশাল মাদক পাচারকারী চক্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে। গত এক বছরে এই চক্রটি শক্তিশালী স্পিডবোট এবং সাগরে ভাসমান ঘাঁটির মাধ্যমে ইউরোপে ৫৭ টনের বেশি কোকেন পাচার করেছে।
এক বছরব্যাপী চলা এই তদন্তে ১০৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের নেটওয়ার্ক দক্ষিণ স্পেন, পর্তুগাল, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এবং মরক্কো পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তারা মাঝসমুদ্রে সরবরাহকারী জাহাজ থেকে দ্রুতগামী বোটে মাদক সরিয়ে নিত।
তদন্তকারীরা আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। এই চক্রের এক সদস্যের মৃত্যু হলে তার পরিবারকে ১২ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ইউরো) দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা মুখ বন্ধ রাখে এবং অপরাধী চক্রের গোপনীয়তা বজায় থাকে।
প্রকাশক : ফারুক শিকদার
সম্পাদক : হিল্লোল বাউলিয়া
অফিস : যোগাযোগ: ৭০১,রোড নং-১১, বাইতুল আমান হাউজিং,আদাবর, ঢাকা-১২০৭
ইমেইল : banglarproticchobi@gmail.com
মোবাইল : ০১৮২২-৯৯০৮৮৮, ০১৬৩৩-৬০৭২৫৫
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলার প্রতিচ্ছবি